ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ফের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাতভর চালানো এই হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। হামলার জেরে একাধিক আবাসিক ভবন, সরকারি ভবন ও অন্যান্য স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ কিয়েভের সোলোমিয়ানস্কি জেলার একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনের উপর পড়ে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের উপরের তলা থেকে ৩৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করে। ওই জেলায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও আট জন।
অন্যদিকে, দারনিৎসকি জেলায় হামলার সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে সাত জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। হামলার ফলে একাধিক আবাসিক ভবন, যানবাহন, প্রশাসনিক কার্যালয় এবং অন্যান্য স্থাপনায় আগুন লাগে ও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জেলেনস্কির মতে, সেই বৈঠক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ ছিল।
নতুন এই হামলার মাত্র দু’দিন আগেই ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার আরেকটি বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১০ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। ফলে পরপর দুই দফা হামলায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী কিয়েভ-সহ বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বেসামরিক এলাকায় হামলার ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান আরও জোরালো হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
Geopulse TV
