পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বালুচিস্তানের তথাকথিত ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, যা ইসলামাবাদের জন্য নতুন এক ভূরাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার (১৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজেকে বালুচিস্তানের প্রতিনিধি দাবি করা মীর ইয়ার বালুচ নামের এক ব্যক্তির পোস্ট এবং একটি চিঠি ভাইরাল হওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ভাইরাল হওয়া ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ এখন আর পাকিস্তানের অংশ নয় এবং অঞ্চলের ৮৫ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বঘোষিত এই প্রশাসন নিজস্ব জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত (‘মা চুকাইন বালুচানি’) এবং নিজস্ব মুদ্রা ‘বালুচি ফালুস’ চালুরও দাবি করেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থার বহু সদস্য পদত্যাগ করে বালুচ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে কোনো যুদ্ধবিমান বা ভারী গোলন্দাজ বাহিনী না থাকলেও, ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে পাকিস্তানের ‘দখলদার বাহিনী’কে সম্পূর্ণ উৎখাত করতে প্রায় ৫ লাখ সদস্যের বালুচিস্তান সামরিক, নৌ, বিমান ও বেসামরিক প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে অঞ্চলের গ্যাস ক্ষেত্র, সোনা ও তামার খনিসহ সব প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে এই স্বঘোষিত কর্তৃপক্ষ।
BREAKINGN NEWS 🚨⚓️✈️
The Republic of Balochistan’s Defense and Security Forces Have Secured 85% of Balochistan’s Territory13 July, 2026
Balochistan has declared its independence, adopted its national anthem, “”Ma Chukain Balochani,” introduced its national flag, established… pic.twitter.com/sCUm7rSlye
— Mir Yar Baloch (@miryar_baloch) July 13, 2026
এই পোস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃতির আবেদন জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় গণমাধ্যম, ইউটিউবার ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা বালুচদের ‘পাকিস্তানের নিজস্ব মানুষ’ হিসেবে অভিহিত না করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র বা সংস্থা বালুচিস্তানের এই তথাকথিত স্বাধীনতাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বালুচিস্তানের এই ধরনের প্রচারণামূলক তৎপরতা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অখণ্ডতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেললেও, কোনো জোরালো বৈশ্বিক সমর্থন ছাড়া এর বাস্তব ভিত্তি অনেকটাই সীমিত। ভারত বা বৈশ্বিক শক্তিগুলোর জন্য এটি আপাতত পাকিস্তানের একটি অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচারণার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
Geopulse TV
