আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ইরানি বাহিনী যেসব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে আসছিল, তা আরও দুর্বল করে দিতে তারা আজ ইরানে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বুশেহর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, যেখানে ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত।
এই আগ্রাসনের জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে জোড়া বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC)। জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা, বিমানের আশ্রয়স্থল (Aircraft Shelters), প্রধান কমান্ড সেন্টার এবং কৌশলগত ড্রোন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্স এক বিবৃতিতে জানায়, জর্ডানের আল-আজরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তারা সফল হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, আমেরিকার চালানো বিমান হামলার একটি বড় অংশ জর্ডানের এই মার্কিন ঘাঁটি থেকেই পরিচালিত হয়েছিল। পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি-র নৌবাহিনী জানায়, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (US Fifth Fleet) এনএসআই ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশের বিশাল গুদামঘর, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন এবং সামুদ্রিক রুট অবরুদ্ধ করার প্রতিবাদে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ইরান।
Geopulse TV
