মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও বন্দর এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
এর আগে ওমান উপকূলের কাছে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই উভয় পক্ষের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
বাহরাইনে, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত, অন্তত দুই দফা সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার অভিযান চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে বাহরাইন, কুয়েত কিংবা কাতারে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তার প্রতি ইরানের হুমকি কমিয়ে আনাই ছিল এই অভিযানের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বুশেহর, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও সিরিকসহ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানশাহরের একটি বিমানবন্দরে হামলায় একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী নিহত হয়েছেন বলেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
Geopulse TV
