টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র চার বছর বাকি থাকলেও, এর মূল্যায়নযোগ্য লক্ষ্যগুলোর মাত্র ৩৬ শতাংশ সঠিক পথে রয়েছে। বাকি লক্ষ্যগুলোর প্রায় অর্ধেকই স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
‘দ্য সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ২০৩০ এজেন্ডা গ্রহণের পর থেকে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, সঠিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। এই সময়ে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানির আওতাভুক্ত হয়েছে এবং ১২০ কোটি মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা পেয়েছে। এছাড়া ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নতুন এইচআইভি (HIV) সংক্রমণ ৩০ শতাংশ এবং এইডসজনিত মৃত্যু ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ৯২ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছাচ্ছে।
পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এসেছে। এই প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ২০৩০ এজেন্ডার মূল রূপকল্প বা স্বপ্নটি এখনো আমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়নি।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব আমিনা মোহাম্মদ বলেন, এসডিজির লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সঠিক। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তিনি তিনটি প্রধান অঙ্গীকারের আহ্বান জানান: প্রতিটি লক্ষ্য পূরণের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা এবং ক্রমাগত সামরিক ব্যয় না বাড়িয়ে উন্নয়নের খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে শান্তিকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহুয়া জোর দিয়ে বলেন, ২০৩০ এজেন্ডা এটিই প্রমাণ করে যে টেকসই উন্নয়ন একটি যৌথ প্রয়াস, এটি কোনো একক লাভ-ক্ষতির খেলা বা ‘জিরো-সাম গেম’ নয়।
Geopulse TV
