ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২০২৬ সালকে ‘ঐতিহাসিক বছর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ বছর নৌবাহিনীতে ১৮টি যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত বা কমিশন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এক বছরে এত সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করার ঘটনা ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর দ্বিবার্ষিক কমান্ডার্স কনফারেন্স-২০২৬-এর দ্বিতীয় সংস্করণে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রাজনাথ সিং।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এত বড় পরিসরে যুদ্ধজাহাজ তৈরি ও নৌবহরে অন্তর্ভুক্তির সক্ষমতা ভারতের নিজস্ব নৌ-জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন। প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাজনাথ সিংয়ের দাবি, ভারতের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের বর্তমান পরিকাঠামো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে। সম্প্রতি কমিশন করা যুদ্ধজাহাজগুলোর ৭৫ শতাংশেরও বেশি উপাদান দেশীয়ভাবে তৈরি বলে জানান তিনি।
সামুদ্রিক নজরদারিতে আরও জোর
ভারতের সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন রাজনাথ সিং। তাঁর মতে, বর্তমানে ব্যবহৃত নজরদারি ব্যবস্থাগুলোর গুরুত্ব থাকলেও সমুদ্রপথে যান চলাচলের পরিমাণ ও জটিলতা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে সামুদ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের সক্ষমতাও আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার প্রয়োজন হচ্ছে।
‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এ নৌবাহিনীর ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ পরিকল্পনায় ভারতীয় নৌবাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত সক্ষমতা প্রদর্শনে নৌবাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ প্রস্তুতি ধরে রাখার নির্দেশ
পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেও উচ্চমাত্রার যুদ্ধ প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক দায়িত্ব পালনের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রশংসা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
রাজনাথ সিং নৌবাহিনীকে বর্তমান গতি ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর লক্ষ্য হিসেবে উঠে আসে একটি ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত, যুদ্ধ-সক্ষম এবং আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত নৌবাহিনী গড়ে তোলা।
২০২৬ সালে ১৮টি যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা এবং দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়টি ভারতের সামরিক জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার ওপর সরকারের গুরুত্বকে সামনে আনছে।
Geopulse TV
