টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের পর এই বিরতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে ওমান, ইরান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে—এমন দাবি নাকচ করে দেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার পর তেহরানও পাল্টা হামলা স্থগিত করেছে। তাঁর দাবি, গত দুই রাত ধরে কোনো পক্ষই হামলা চালায়নি। ফলে পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা শান্ত রয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূচনা হয়, যখন ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয় এবং জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে।
সাম্প্রতিক সংঘাতে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া ইরাকে আরেকটি হামলায় নিহত হন আরও একজন মার্কিন সেনা। এসব ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তেহরানে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক করেছে ইরান ও ওমান। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, চলমান সংঘাত এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
Geopulse TV
