পাকিস্তানের দাবিতে বড় ধাক্কা! IAF টেন্ডারে ফাঁস—একটিও রাফাল হারায়নি ভারত

২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ধ্বংসের পাকিস্তানের দাবি আবারও বড় ধাক্কা খেল। ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)-এর সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ভারত-ফ্রান্স চুক্তিতে কেনা সব ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান এখনও সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় এবং পরিষেবায় রয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এয়ার হেডকোয়ার্টার্স ফরাসি সংস্থা ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশন এবং সাফরান এয়ারক্রাফ্ট ইঞ্জিনস-এর কাছে পাঁচ মাসের একটি “ব্রিজ সাপোর্ট” প্যাকেজের জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) জারি করেছে। এই সহায়তা ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরবর্তী সময়ের জন্য চাওয়া হয়েছে। যদিও এই টেন্ডার নথি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ই-প্রোকিউরমেন্ট পোর্টালে প্রকাশ করা হয়নি।

 

 

১২ জুন এবং ১৫ জুন তারিখে জারি হওয়া এই RFP-তে উল্লেখ রয়েছে, রাফাল বহরের প্রতিটি বিমানের জন্য বছরে ১৫০ ঘণ্টা উড়ান ধরে অপারেশন চালিয়ে যেতে এই সাপোর্ট প্রয়োজন। অর্থাৎ পাঁচ মাসে মোট ২,২৫০ ঘণ্টার উড়ান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্যাকেজের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, ভোগ্যপণ্য এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বহর সচল রাখা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই টেন্ডার নথিতে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধ আছে বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের সেই দাবি কার্যত খারিজ হয়ে যায়, যেখানে বলা হয়েছিল অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন একাধিক ভারতীয় রাফাল বিমান ধ্বংস করা হয়েছে।

পাহালগাম জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত যে সামরিক অভিযান চালায়, তার সময় ইসলামাবাদ এবং পাকিস্তানপন্থী সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলি দাবি করেছিল যে ভারতের একাধিক রাফাল ভূপাতিত হয়েছে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত অভিযোগকে ‘ভুয়ো তথ্য’ বলে উড়িয়ে দেয়।

এমনকি যেসব রাফাল বিমানের টেল নম্বর পাকিস্তানি সূত্রে ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল, সেগুলিকেই পরবর্তীতে উড়ান কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডেও সেইসব বিমান অংশ নেয়।

অপারেশন সিন্দুরের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসা এই রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত টেন্ডার নথি স্পষ্টভাবে পুরো রাফাল বহরকে সচল রাখার পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছে। ফলে ভারতের অবস্থান আরও জোরালো হচ্ছে যে, ওই অভিযানে একটি রাফাল যুদ্ধবিমানও হারায়নি দেশ।

About Desk 1

Check Also

গোয়া দখল করতে কেন ১৪ বছর লাগলো ভারতের ?

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত স্বাধীনতা লাভ করলেও, দেশের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত গোয়া তখনও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *